মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। ইরানের সামরিক বাহিনীর ছোড়া ড্রোন দেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনায় আঘাত হানার পর প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কাতারএনার্জি জানায়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এবং মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে তাদের পরিচালনাকেন্দ্র সামরিক হামলার শিকার হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন মেসাইদ এলাকার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকে আঘাত হানে। অপর একটি ড্রোন রাস লাফান শিল্পনগরীতে কাতারএনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরে বিস্তারিত জানাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতার। এলএনজি সরবরাহে দেশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে উৎপাদন বন্ধের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে। জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
মন্তব্য করুন