মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে আবারও বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ইরান। সাময়িকভাবে উন্মুক্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রণালিতে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে ‘পূর্বের অবস্থায়’ ফিরে যাবে এবং পুরো এলাকা সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি, ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি এবং আইআরআইবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির বরাতে প্রকাশ করা হয়েছে।
আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘জলদস্যুতা’ বা সামুদ্রিক লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, মার্কিন নৌ-অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
শুক্রবার লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত নিরাপত্তা রুট মেনে চলতে হবে।
কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।
এই অবস্থার মধ্যেই ইরান আবার প্রণালির নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মাঝখানে স্বল্প সময়ের জন্য কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলেও, ঠিক কতগুলো জাহাজ এই রুট ব্যবহার করতে পেরেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই নতুন কড়াকড়ি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্য প্রবাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন