দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রশ্নে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সংকট না থাকলেও বাস্তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া ঠেকানো হচ্ছে।
জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি বছরের মার্চেও সমপরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। পাশাপাশি আতঙ্কে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।”
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান, ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়ার সীমা নির্ধারণ বা রং লাগানোর বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই।
সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ঢাকার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। সফল হলে এটি সারা দেশে চালু করা হবে।
মন্তব্য করুন