দীর্ঘ আট বছর পর আবার এক বিন্দুতে মিলিত হচ্ছেন বলিউডের তিন স্তম্ভ—শাহরুখ খান, সালমান খান ও আমির খান। যদিও এক সিনেমায় নয়, তবে ২০২৬ সালে একই বছরে মুক্তি পাচ্ছে তিন খানের আলাদা আলাদা সিনেমা। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম একসঙ্গে একই বছরে রুপালি পর্দায় ফিরছেন তারা।
ষাটের কোটায় পা রেখেও এই তিন সুপারস্টারকে ঘিরে দর্শকের উন্মাদনায় একটুও ভাটা পড়েনি। তবে শেষবার একই বছরে তাদের সিনেমা মুক্তির স্মৃতি খুব সুখকর ছিল না। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সালমানের ‘রেস থ্রি’, শাহরুখের ‘জিরো’ ও আমিরের ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’—তিনটিই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।
এরপর করোনা মহামারি, দক্ষিণী সিনেমার উত্থান এবং দর্শকের ওটিটিমুখী হওয়ার প্রবণতায় বলিউডের খানের রাজত্ব বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তবে সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে আবার ঘুরে দাঁড়ায় হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্প।
২০১৮ সালের ব্যর্থতার জবাব সবচেয়ে জোরালোভাবে দিয়েছেন শাহরুখ খান। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডাংকি’—এই তিন সিনেমায় দুই হাজার কোটি রুপির বেশি আয় করে তিনি নিজের স্টারডমকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন। এবার তার বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’ মুক্তির অপেক্ষায় দর্শক।
অন্যদিকে সালমান খান ফিরছেন ভিন্নধর্মী সিনেমা ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে। এই ছবিতে নেই চেনা অ্যাকশন স্টান্ট বা সংলাপনির্ভর নায়কোচিত উপস্থিতি। বরং বরফে ঢাকা সীমান্তে নীরব লড়াইয়ের গল্পে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চান তিনি।
আর মি. পারফেকশনিস্ট আমির খান দীর্ঘ বিরতির পর ফিরছেন ‘হ্যাপি প্যাটেল খাতারনাক জাসুস’ ও ‘লাহোর ১৯৪৭’ নিয়ে। এই দুই ছবিতে তিনি অভিনয়ের চেয়ে গল্প ও প্রযোজনায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ঠিক আট বছর পর ২০২৬ সালে আবার একই বিন্যাসে ফিরছে বলিউডের তিন কিংবদন্তি। গল্প আলাদা, চরিত্র আলাদা—তবে প্রত্যাশা একটাই। প্রশ্ন হলো, এবার কি একসঙ্গে সফলতার নতুন ইতিহাস লিখতে পারবেন শাহরুখ, সালমান ও আমির?
মন্তব্য করুন