মির্জাগঞ্জকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার ঘোষণা ওসি আব্দুস সালামের।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুস সালাম। উপজেলার ১নং মাধবখালী ইউনিয়নের নিউমার্কেট বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “মাধবখালী ইউনিয়ন সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী আলহাজ্ব এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর এলাকা। এই ইউনিয়নে কোনো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবে না। বিশেষ করে তরমুজ ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো ধরনের অনিয়ম বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের সেবায় আমার মোবাইল নম্বর ২৪ ঘণ্টা খোলা আছে। কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ বাধা দিলে ছবি তুলে আমাকে পাঠান, ব্যবস্থা আমি নেব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হিউম্যান ক্রাইম রিপোর্ট ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “এমপি মহোদয়ের কঠোর নির্দেশ রয়েছে এলাকায় কোনো দখলবাজি বা চাঁদাবাজি চলবে না। গত ১৭ বছরে যারা সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করেছে, জমি দখল করেছে বা সরকারি মালামাল আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিচার হবেই। বিশেষ করে কাঁঠালতলীর সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির তালুকদারের মতো যারা অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই।”
সভায় স্থানীয় তরমুজ ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আমতলী থেকে আসা ব্যবসায়ী মোসাম্মৎ খাদিজা ও রুহুল আমিন অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন সময় তাদের তরমুজ চুরি হওয়া ও চাঁদার দাবিতে হুমকির মুখে পড়তে হয়। উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নাসির হালদার এবং ১নং মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মিলন শিকদার বলেন, “সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই এলাকাকে আমরা ক্লিন ও নিট রাখতে চাই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আমরা প্রশাসনের পাশে আছি।” অনুষ্ঠানে নারী নেত্রী আয়েশা কানুন রানী নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
সত্তার হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মির্জাগঞ্জ উপজেলাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন