যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তিনি পাকিস্তান সফর করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইতোমধ্যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। তার ভাষায়, এটি দীর্ঘদিনের আলোচনার সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি বলেন, “চুক্তি যদি পাকিস্তানে সই হয়, তাহলে আমি সেখানে যেতে পারি।”
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে ছিল এবং সেই শর্তেই ইরান মূলত রাজি হয়েছে বলে তার দাবি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “ইরান প্রায় সব শর্তেই সম্মত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সমঝোতার প্রধান বাধা ছিল ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত, যা তারা হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে।
ট্রাম্প এই ইউরেনিয়াম মজুতকে “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” বলে উল্লেখ করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যা সম্ভবত পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
এর আগে ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করলেও তা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর বা চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ আসেনি।
মন্তব্য করুন