ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে Hezbollah-কে সরিয়ে দিতে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের লক্ষ্য হচ্ছে লেবাননের পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত Litani River-এর দক্ষিণের পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। বুধবার হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে দুই শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করার পরই এই বড় সামরিক অভিযান প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে জানানো হয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা গাজায় যা করেছি, এখানেও তাই করব।” অর্থাৎ হিজবুল্লাহর অস্ত্র মজুদ ও হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, টানেল ও অবস্থানগুলো ধ্বংস করা হবে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর সীমান্তে ব্যাপক সেনা সমাবেশ শুরু করেছে। সেনাপ্রধান Eyal Zamir উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধ ইউনিট মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবারের হামলায় হিজবুল্লাহর রকেট নিক্ষেপের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহর নেতা Naim Qassem বলেছেন, তাদের সংগঠন দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছি, যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরায়েল চমকে যাবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন ইসরায়েলের পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও লেবাননের জাতীয় অবকাঠামো ও Beirut আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু না করার আহ্বান জানিয়েছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী Litani River-এর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করেছে, যা হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা যাতায়াত ও রকেট হামলার জন্য ব্যবহার করছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান শুরু করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে এবং নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সূত্র: টাইম অফ ইসরাইল
মন্তব্য করুন