আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জ-৪ আসন, যা মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। রাজনৈতিকভাবে ঐতিহ্যবাহী ও ভোটের সমীকরণে প্রভাবশালী এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচনী মাঠের আলোচনা ও ভোটারদের মতামতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল।
সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি সাবেক কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য এবং হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মাধবপুর ও চুনারুঘাটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে তার এই দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই আসনে আলোচনায় থাকা অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের মোল্লা এবং ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও মাঠপর্যায়ে তাদের উপস্থিতি ও প্রচারণার কার্যক্রম তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোটার ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
চুনারুঘাট ও মাধবপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ ফয়সলকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করছেন। বিশেষ করে এই আসনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে চা শ্রমিকদের ভোট নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ-৪ আসনে প্রায় ২৮টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানের শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন চা শ্রমিক জানান, অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবার তারা ভিন্ন ধরনের সাড়া অনুভব করছেন এবং অনেকেই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সৈয়দ ফয়সল ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার দুই সন্তানও সক্রিয়ভাবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যা তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের মতে, ফয়সলের বড় ছেলে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন, অন্যদিকে ছোট ছেলে মাঠপর্যায়ে শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন।
মাধবপুর ও চুনারুঘাটের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম এলাকায় নারী-পুরুষ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে অনেক ভোটার সৈয়দ ফয়সলকে সমর্থন করছেন। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে দেখেছেন এবং সেই পরিচিতির কারণে তার প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপির একটি ঐতিহ্যগত ভোট ব্যাংক রয়েছে। দলীয় ভোটের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং পরিবারভিত্তিক প্রচারণা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এসব বিষয় মিলিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভোটারদের সমর্থন পেতে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ, জোট রাজনীতির প্রভাব এবং শেষ মুহূর্তের প্রচারণার ওপর।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই হবিগঞ্জ-৪ আসনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভোটের হিসাব-নিকাশ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আসনের ফলাফল স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন