পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ডিলারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ডিলার নাই, ট্যাগ অফিসারও নাই- তাহলে টিসিবি পন্য বিতরন করছে কারা?
স্থানীয়দের অভিযোগ, লভ্যাংশ ও টিসিবি পন্য দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে হঠাৎ করে গা-ঢাকা দেন ডিলার জহিরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে গত ২০২৪ ইং সনের রমজানে মাসে খাগড়াছড়ি সদরে টিসিবি মালামাল অবৈধভাবে মুদি দোকানে বিক্রি করার অভিযোগ ও রয়েছে। যার কারনে কিছুদিন তার ডিলার স্থগিত রেখেছিলো প্রশাসন। কিন্তু তিনি পুনরায় হাইকোর্টের মাধ্যমে ডিলারসীপ ফিরে পেয়ে মুদি দোকানে মালামাল বিক্রিসহ স্থানীয়দের কাছ থেকে মালামাল দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ করেন। এতে করে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জালিয়াপাড়া টিসিবির ট্যাগ অফিসার রমনি ত্রিপুরার কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং ডিলার ছাড়া যে টিসিবি পন্য বিতরন করা হচ্ছে সেটিও তিনি জানেন না ও ডিলারের অনুপস্থিতও তিনি জানেন না। এতে পুরো কার্যক্রম নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য।
এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—ডিলার না থাকলেও কীভাবে টিসিবির পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে? তাহলে কারা এই পণ্য উত্তোলন করছে এবং কার মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে? সাধারণত টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হয় সরকারি তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী।
এক্ষেত্রে ডিলারের অনুপস্থিতিতে অন্য কারও মাধ্যমে পণ্য বিতরণ করা হলে তা নিয়মবহির্ভূত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর অর্থ আত্মসাতের বিচার, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত এবং সঠিকভাবে টিসিবি পণ্য বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনিয়ম ঘটতে পারে।
মন্তব্য করুন