অস্থায়ী চাকরি, সামান্য বেতন—কিন্তু সম্পদের পাহাড়! হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশ পুর ইউনিয়নের ইটাখোলা কৃষি ফার্মকে ঘিরে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রদীপ কুমার দেব—যিনি একসময় চা দোকানে কাজ করতেন, আর এখন নাকি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক!
প্রদীপ কুমার দেবের গ্রামের বাড়ি বহরা ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে। তার বাবা প্রফুল্ল কুমার দেব, কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, একসময় এই পরিবারটির আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৮ বছর আগে মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মাসিক বেতনে ইটাখোলা ফার্মে অস্থায়ী ফোরম্যান হিসেবে যোগ দেন তিনি। তার কাজ ছিল মাঠে বীজ শুকানো এবং বীজ প্রসেসিং করা সর্দার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। এর আগে তিনি কাজ করতেন ইটাখোলা রেলগেট এলাকায় তার বোন জামাতা সাধন দেবেন-এর চায়ের দোকানে। সেখান থেকেই কৃষি ফার্মে চাকরির সুযোগ পান।
দীর্ঘ ২৮ বছর পার হলেও এখনো তিনি অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবেই রয়েছেন। বর্তমানে তার বেতন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু এখানেই শুরু প্রশ্নের—এই সীমিত আয়ে কীভাবে তিনি হয়ে উঠলেন বিশাল সম্পদের মালিক? স্থানীয়দের দাবি, প্রদীপ কুমার দেব এখন শুধু একজন কর্মচারী নন, বরং একাধিক বাড়ি, জমি এবং অট্টালিকার মালিক।
জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার অন্তত ৫টি বাড়ি রয়েছে। প্রতিটি বাড়ির আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। শুধু বাড়িই নয়—তার নামে ও বেনামে রয়েছে শত শত একর কৃষি জমি।
তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে উল্লেখযোগ্য কিছু জমির বিস্তারিত চিত্রও।
জগদীশপুর মৌজার ৯২৭ নম্বর দাগে রয়েছে ২১ শতাংশ ভরাট জমি, যা চারদিক ঘেরা বাউন্ডারির মধ্যে রয়েছে। সন্তোষপুর গ্রামে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে তার বসবাসের জন্য তৈরি ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার আয়তন প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ওপর।
এছাড়া ঘুলাইয়া মৌজার ১২৬ নম্বর দাগে রয়েছে ৪২ শতাংশ কৃষি জমি।
সন্তোষপুর মৌজায় ৫৩০ নম্বর দাগে ১৫ শতাংশ এবং ৫৩১ নম্বর দাগে ২১ শতাংশ জমির তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে ঘুলাইয়া মৌজায় ৩৬ শতাংশ এবং সন্তোষপুরে আরও ৩২ শতাংশ জমির মালিকানার তথ্য উঠে এসেছে।
এছাড়া সন্তোষপুর মৌজার ৬০৭ নম্বর দাগে ২২ শতাংশ জমি তার নামে রয়েছে বলে জানা গেছে। বড়ধলিয়া মৌজায় ২১১ নম্বর দাগে ১৫ শতাংশ এবং ঘুলাইয়া মৌজায় আরও ৮ শতাংশ জমির মালিকানার তথ্যও মিলেছে।
সব মিলিয়ে, একজন অস্থায়ী কর্মচারীর নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের এই চিত্র স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন—একসময় যার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল তলানিতে, তিনি কীভাবে এত অল্প সময়ে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন?
এমনকি তার ছেলে-মেয়েরা বর্তমানে ডাক্তারি পড়াশোনা করছেন বলেও জানা গেছে, যা তার আর্থিক সক্ষমতার আরও একটি দিক তুলে ধরে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বলছেন এটি দুর্নীতির ফল, আবার কেউ বলছেন এর পেছনে রয়েছে অজানা কোনো ব্যবসায়িক উৎস।
তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, ইটাখোলা ফার্মের এক অস্থায়ী কর্মচারী থেকে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠার এই গল্প এখন স্থানীয়দের কাছে এক রহস্য—যার উত্তর খুঁজছে সবাই। চলবে…
মন্তব্য করুন