সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে প্রতিবেশীদের লাগাতার হয়রানি, জমি দখল ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।
বুধবার (১ মে) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পূর্ব মৌতলা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে বকুল পারভিন।
তিনি জানান, তাঁর চাচা সাবেক সেনা কর্মকর্তা আলহাজ্ব আব্দুর রাশেদের জমিতে ২০১৫ সাল থেকে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। ২০২২ সালের ২ মার্চ আব্দুর রাশেদ ও তাঁর স্ত্রী রাজিয়া রাশেদ বকুল পারভিনের নামে ১৭ শতক এবং তাঁর বড় ভাই অহিদুর রহমানের নামে সাড়ে ১৬ শতক জমি লিখে দেন। বর্তমানে ওই চাচা পরিবার নিয়ে যশোরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রতিবেশী তৈয়বা খাতুন ওরফে বাসিরুন এবং তাঁর ভাই এসএম আবির হোসেন তাদের চাচার প্রায় তিন শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। ওই জমিতে পারিবারিক কবরস্থানসহ নারিকেল, আমড়া, সৃষ্টিফুল ও মেহগনি গাছ রয়েছে।
বকুল পারভিন জানান, আমড়া গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় তাঁর টিনশেড ঘরের এসবেস্টার ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হলেও প্রতিকার মেলেনি।
২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বর সীমানা নির্ধারণের জন্য জরিপ করা হলেও, বাসিরুন ও আবির সীমানা পিলার বসানোর আগেই এলাকা ত্যাগ করেন। এরপর বাসিরুনের স্বামী আব্দুস সাত্তারের কাছে নকশা হস্তান্তর করা হয়।
এছাড়া গত ১৭ এপ্রিল বকুল পারভিন তাঁর জমির দুটি গাছ বিক্রি করেন। কিন্তু ২০ এপ্রিল রাতে আবির হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী তাঁর বাড়িতে এসে গাছ কাটায় হুমকি প্রদান করে। পরে ২১ এপ্রিল মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বকুল পারভিন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমি দাদা-দাদির কবরসহ তিন শতক জমি, গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল ফিরে পেতে চাই। আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি ও হুমকির হাত থেকে রক্ষা করুন।”
মন্তব্য করুন