মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার একটি ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি সেখানে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। তার আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ইসলামাবাদে অবতরণের পর ইরানি প্রতিনিধি দল সোজা সেরেনা হোটেলে যায়, যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাগচি। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সাম্প্রতিক অচলাবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এর পর ১১ এপ্রিল একই হোটেলে প্রথম দফা সংলাপে বসে দুই পক্ষ।
সেই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তবে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
এবারের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপে এই দুই শীর্ষ প্রতিনিধি অনুপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। এতে করে নতুন নেতৃত্বে আলোচনার নতুন কৌশল আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি-এর সমর্থন। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে দোহা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানে চলমান এই আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আরাগচির এই সফর কেবল একটি কূটনৈতিক বৈঠক নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন