মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবার সরাসরি আঘাত হানছে ইউরোপের আকাশপথে।
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় গুরুতর সংকটে পড়তে যাচ্ছে ইউরোপের বেসামরিক ও বাণিজ্যিক বিমান চলাচল খাত।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—বর্তমান মজুত দিয়ে বড়জোর আর মাত্র ৬ সপ্তাহ চলতে পারবে ইউরোপের জেট ফুয়েল সরবরাহ।
ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে খুব শিগগিরই ইউরোপের বিভিন্ন শহরের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হওয়ার খবর আসতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা এখন এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আছি, যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়াই এই সংকটের মূল কারণ।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
কিন্তু বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে, সেখানে এখন গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২টি জাহাজ চলাচল করছে।
ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে।
তারা আরও বলেন, ধনী বা দরিদ্র—কোনো দেশই এই সংকটের প্রভাব থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট, আকাশপথে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ—এই তিনের সমন্বয়ে নতুন এক বড় সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব।
মন্তব্য করুন