কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাস্করখিলা গ্রামে অন্যের জমি থেকে জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সুরুজ মিয়া। উল্টো তার বিরুদ্ধে করা সংবাদ সম্মেলন ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
সুরুজ মিয়া জানান, মো. নাজিম উদ্দিন (পিতা: মৃত ইছাম উদ্দিন) সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে গাছ কাটা ও এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “যে জমি নিয়ে বিরোধ, সেটি প্রকৃতপক্ষে আমার ফুফুদের মালিকানাধীন। দলিল অনুযায়ী নাজিম উদ্দিনের জমি দাগের পশ্চিম পাশে, কিন্তু তিনি অবৈধভাবে পূর্ব পাশের জমি দাবি করছেন। পূর্ব পাশের জমিটি ওয়ারিশসূত্রে আমার তিন ফুফু দীর্ঘকাল ধরে ভোগদখল করছেন।”
তিনি আরও জানান, ফুফুরা তাকে জমির দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। ফুফুদের পারিবারিক প্রয়োজনে তাদের নির্দেশেই তিনি গাছ কাটতে গিয়েছিলেন। অথচ এই বৈধ কাজটিকে কেন্দ্র করে তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সুরুজ মিয়া বলেন, “মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাকে এবং আমার সংগঠনকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। আমি এই ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
জমির মালিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য: জমির ওয়ারিশসূত্রে মালিক মোছা. আছিয়া বলেন, “এই জমির মালিক আমি এবং আমার দুই বোন। টাকার প্রয়োজনে আমি নিজে আমার ভাইপো সুরুজ মিয়াকে গাছ কেটে বিক্রি করতে বলেছি। আমাদের নিজের জমির গাছ কাটতে গিয়ে সুরুজ কেন চাঁদাবাজ হবে?”
ঘটনার সময় উপস্থিত মোছা. নাছিমা জানান, গাছ কাটতে গেলে নাজিম উদ্দিন বাধা দিতে আসেন এবং এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর দাবি: স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ, মুকসেদ মিয়া ও আবুল কাশেম চান মিয়া জানান, সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগটি সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক। তারা দলিল যাচাই করে দেখেছেন যে, নাজিম উদ্দিনের ক্রয়কৃত জমি একই দাগের পশ্চিম পাশে, অথচ তিনি ভোগদখল করতে চাইছেন পূর্ব পাশে—যা দীর্ঘদিন ধরে সুরুজ মিয়ার ফুফুরা ব্যবহার করছেন।
এলাকার সচেতন মহল এই মিথ্যা অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে সামাজিকভাবে বসে দ্রুত এই বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন