জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের জন্য প্রত্যাশিত কাজ করতে পারেনি, যার প্রধান কারণ ছিল অভিজ্ঞতার অভাব।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনূস একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি হলেও, পুরো সরকারের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। ফলে দেশের মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান তারা দিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, সেই সময় দেশের অর্থনৈতিক সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে এবং স্বাস্থ্য খাতে বড় সংকট তৈরি হয়। বিশেষ করে হামের টিকার ঘাটতির কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তিনি স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছিল। এজন্য তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী-কে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে।
‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে থাকা উচিত। কয়েকজন ব্যক্তি বা কোনো একক নির্দেশে সংবিধান পরিবর্তন হওয়া গণতান্ত্রিক নয়।
তিনি জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে থাকলেও কিছু বিষয়ে তারা ভিন্নমত দিয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ।
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, কিছু রাজনৈতিক কৌশল থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। কিন্তু স্বাধীনতার পর বারবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
স্পিকার অভিযোগ করেন, গত ১৬-১৭ বছরে নির্বাচন ব্যবস্থায় নানা অনিয়ম হয়েছে এবং গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকায় কার্যত অবরুদ্ধ ছিলেন।
সবশেষে তিনি বলেন, ছাত্র-যুবকদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখা।
মন্তব্য করুন