দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি বলেন, সরকার সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সময়োপযোগী, দক্ষ ও আধুনিক শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল এবং আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানো, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা জোরদারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলে আত্মনির্ভরতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রচলিত সামরিক শক্তির পাশাপাশি সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষার মতো আধুনিক ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
বিশেষভাবে বিমান বাহিনীতে ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌযান, সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, কল্যাণ ও অবসরোত্তর সুবিধা নিশ্চিত করে একটি প্রযুক্তিমুখী ও জনআস্থাসম্পন্ন বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ নিয়মিত যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন