মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে।
বুধবার ভোরে শুরু হওয়া এই হামলায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ একযোগে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার ফলে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
বিশেষ করে কিরিয়াত শামুনা শহর ও এর আশপাশের এলাকায় হামলার তীব্রতা বেশি ছিল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে বিভিন্ন স্থাপনায়।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, অন্তত ৮ থেকে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হেনেছে। এর ফলে আক্কা, নেহারিয়া, আল-জালিল এবং পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
এই হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই হিজবুল্লাহ এই পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
এদিকে, সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যে কোনো সময় এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা-প্রতিহামলার ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত এখন একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন