কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত কাস্টম মোড় এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম মোছাঃ আইরিন নাহার বৈশাখী। তিনি ওই এলাকার মোঃ শ্যামল হোসেনের স্ত্রী।
নিহত আইরিনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্যামল যৌতুকের দাবিতে আইরিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসতেন। আইরিনের বাবা জমি বিক্রি করে ইতিপূর্বে ১০ লাখ টাকা দিলেও শ্যামলের টাকার লালসা কমেনি। এছাড়া শ্যামল অন্য এক নারীর সাথে পরকীয়া এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এসব অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় আইরিনকে প্রায়ই মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হতো। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আইরিন সব সহ্য করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
নিহতের বাবা জানান, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে আইরিন তাকে ফোন করে কান্নাকাটি করেন এবং শ্যামল তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন বলে জানান। এর কিছুক্ষণ পরই প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তারা আইরিনের মৃত্যুর সংবাদ পান।
ঘটনার বিষয়ে আইরিনের শিশু সন্তানের বক্তব্যে এক লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে। সাংবাদিকদের শিশুটি জানায়, তার বাবা তার মায়ের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে। এতে আইরিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য মরদেহটি ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। প্রশাসনের লোক আসার আগেই স্থানীয়রা মরদেহটি নিচে নামিয়ে ফেলে।
আইরিনের মা মোছাঃ রোকেয়া খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামী একজন সহজ-সরল মানুষ। তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করে ঘটনার রাতে তড়িঘড়ি করে সুরতহাল রিপোর্টে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইরিনের পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি পক্ষ অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু মরদেহের অবস্থা এবং শিশুর প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা জানান, থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ন্যায়বিচার পাননি। তারা প্রশাসনের উচ্চতর পর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং ইনসাফের ভিত্তিতে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার একটি এজাহার দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে আইরিনের পরিবার ও তার দুই এতিম সন্তান। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই রহস্যময় মৃত্যুর সঠিক কিনারা করতে পারে কি না।
মন্তব্য করুন