
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে নারী-পুরুষের দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম।
উদ্ধারকৃত মৃতদের মধ্যে একজনের নাম সাবিনা আক্তার লাকি (৩৫)। তিনি ঢাকার গুপিবাগ এলাকার রুবেল মিয়ার স্ত্রী এবং অপরদিকে ডিএনডি লেকে ভাসমান মৃত যুবকের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
পুলিশ জানান, নিরব নামের এক ব্যক্তি ৩ বছর পূর্বে সিএন্ডবি কলোনীতে উচ্চমান সহকারী আবু তাহের সরকারের ভাড়াটিয়া বাসায় ভাড়া নেন। নিহত লাকী প্রায় সময় নিরবের বাসায় যাতায়াত করত। চার দিন পূর্বে লাকির স্বামীর সাথে ঝগড়া করে কাউকে না জানিয়ে তিন মেয়ে নিয়ে এই বাসায় উঠে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে বুধবার সকালের মধ্যে যেকোনো সময় তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরবর্তী পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যহা মর্গে পাঠায়।
নিহত লাকীর স্বামী রুবেল জানান, চার দিন পূর্বে রাতে সুফিয়া নামক বড় মেয়েকে ঘুম পাড়ানোর সময় লাকির সাথে সামান্য ঝগড়া হয়। ভোরে কাউকে না জানিয়ে আমার তিন মেয়েকে নিয়ে চলে যায়। আজ সকালে পুলিশের ফোন পেয়ে এখানে এসে তার লাশ দেখতে পাই। তাদের সংসারে সুফিয়া (১০), সাফা (৯), জান্নাত (৬) তিন মেয়ে ও মো. আমির হামজা (১৭) নামের ছেলে রয়েছে।
এর আগে সকাল ৯ টায় সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অভ্যন্তরে ডিএনডি লেকে আনুমানিক ২১ বছর বয়সী একজন যুবকের মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে এখনও তার পরিচয় জানা যায়নি।
মৃত লাকি আক্তারের মরদেহ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, মৃত নারীর স্বামীর নাম রুবেল মিয়া। তিনি নিজ স্বামীর পরিবর্তে নিরব নামক আরেক যুবকের সঙ্গে থাকছিল। আমরা ওই নিরবের বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছি। নিরব পলাতক রয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনূর আলম বলেন, ‘পৃথক স্থান থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। গৃহবধু হত্যার ঘটনায় নিরব পলাতক রয়েছে। ওই নারীর স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তাছাড়া ডিএনডি লেকে উদ্ধার হওয়া যুবকের পরিচয় এখনও মেলেনি। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
মন্তব্য করুন