বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি দোকান, ৪টি বসতঘর ও একটি পিকআপ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, এতে অন্তত ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম। তিনি জানান, আপাতত প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে নগদ ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, বাজারের বশির খাঁনের তেলের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তালতলী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, অভিযোগ রয়েছে তাদের মেশিনে তেল না থাকায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়, যার ফলে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তালতলী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা এস. এম. নুরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। পানি সংকটের কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে।”
পরবর্তীতে আমতলী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ও স্থানীয়রা যৌথভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বশির খাঁন বলেন, “জীবনে যা আয় করেছি, সব শেষ। দোকানে ১৬ ব্যারেল পেট্রল, দুইশ বস্তা চাল ও ক্যাশ বাক্সে চার লাখ টাকা ছিল, সব পুড়ে গেছে।” মহিবুল্লাহ (হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী) বলেন, “অন্তত অর্ধ কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। তালতলী ফায়ার সার্ভিস সময়মতো কাজ করলে এত বড় ক্ষতি হতো না।” কড়াইবাড়িয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কবির আকন বলেন, “ফায়ার সার্ভিস যথাসময়ে না আসায় এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। আমরা সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানাই।”
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে, মিজান আকন, ফয়সাল, নির্মল শীল, কাইয়ুম মৃধা, মহিবুল্লাহ, বশির খাঁন, ফারুক ঘরামী, হানিফ হাওলাদার, হাবিব মোল্লা, নাসির খাঁন, খবির টেইলার্স প্রভৃতি।
মন্তব্য করুন