ইরানের রাজনৈতিক ও ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে গুরুতর সংকট তৈরি হওয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নিয়ন্ত্রণ এখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসির শীর্ষ জেনারেলদের হাতে চলে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি গুরুতরভাবে আহত হন। সেই হামলায় তার পরিবারের সদস্যরাও নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে আছেন এবং জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না।
বর্তমানে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে, পায়ে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের প্রস্তুতি চলছে এবং মুখমণ্ডলের মারাত্মক ক্ষতির কারণে তার কথা বলার ক্ষমতাও সীমিত হয়ে গেছে। তবে তিনি মানসিকভাবে সচেতন আছেন এবং লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে কিছু সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে। মূল ক্ষমতা এখন আইআরজিসির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নির্বাচিত সরকারকে সীমিত প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা মূলত দৈনন্দিন প্রশাসন, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতেও পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা কমে গেছে, আর সংসদের স্পিকার ও সামরিক ঘনিষ্ঠ কিছু নেতা আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্য স্পষ্টভাবে সামরিক কাঠামোর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তবে এই পরিবর্তন স্থায়ী নাকি সাময়িক—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন