মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ওই অঞ্চলে অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরি।
মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, United States Central Command বা সেন্টকমের অধীনে এই বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরেকটি বিমানবাহী রণতরি USS George H. W. Bush মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে।
জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কৌশলগত অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে দুটি অভিযান চালানো হয় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে। সর্বশেষ একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালানো হয়, যা ইরান থেকে তেল বহন করছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
বর্তমানে সেন্টকমের অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে শক্তিশালী নৌবহর। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি বিমানবাহী রণতরি হলো USS Abraham Lincoln এবং USS Gerald R. Ford।
এছাড়া একাধিক ডেস্ট্রয়ার, কমব্যাট শিপ এবং অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ জাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যা সমুদ্র ও আকাশ—উভয় দিক থেকেই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতা নিশ্চিত করছে।
অন্যদিকে ভারত মহাসাগরেও পৃথকভাবে টহল দিচ্ছে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ, যা পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক প্রস্তুতি কৌশলগত বার্তা বহন করছে। এর মাধ্যমে একদিকে চাপ সৃষ্টি, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
তবে এ ধরনের বড় আকারের সামরিক মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন