দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যেই লোডশেডিং শুরু হয়েছে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, “শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে—এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
তিনি আরও জানান, বুধবার দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। ফলে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা কাটাতে লোডশেডিং বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু বর্তমান সরকারের কারণে নয়, পূর্ববর্তী সময়ের অব্যবস্থাপনাও এর জন্য দায়ী। কাগজে-কলমে উৎপাদন সক্ষমতা বেশি থাকলেও বাস্তবে তার সঙ্গে মিল নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে সংসদে আলোচনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লোডশেডিং নীতি নিয়ে ভিন্ন মত দেন। তিনি সংসদ ভবনের ভেতরে নয়, বরং বিভিন্ন সরকারি অফিসে পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্পিকার বিষয়টি নিয়মের মধ্যে রেখে অধিবেশন পরিচালনা করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু নগর নয়, পুরো দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
মন্তব্য করুন