যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরপরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার সকালে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল রিফাইনিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ইরানের অভিযোগ, এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যা সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে লাভান দ্বীপ-এর শোধনাগারে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পরপরই অগ্নিনির্বাপক ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সময়মতো কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এই হামলার পরই পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত-এর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, লাভান দ্বীপে হামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই এই পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা জারি করে ইরান সরকার অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগের দিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন