মো: জাহিদুল ইসলাম, গাইবান্ধা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

গাইবান্ধায় নদীভাঙন রোধে ব্রিটিশ সময়ে নির্মিত গোড়াইন শুষ্ক মৌসুমে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ

Oplus_16908288

গাইবান্ধা সদরের ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন থেকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ও খোলাহাটি ইউনিয়ন রক্ষায় ব্রিটিশ সময়ে নির্মিত এই গোড়াইন (নদীর স্রোত নিয়ন্ত্রক কাঠামো) এলাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে গোড়াইনের চারপাশে জেগে উঠেছে, তাই চরে চলছে বিস্তীর্ণ আবাদ। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে এই গোড়াইন নামক ব্রিজ টি বুক পেতে রক্ষা করে হাজারো বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার নদীবেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে গিদারী অন্যতম। একসময় প্রতি বছর বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে রাক্ষুসী নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হতেন শত শত পরিবার। এই ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তীর সংরক্ষণ ও গোড়াইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা ফ্যাপ (ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান-ফ্যাপ ২১) কর্মসূচির আওতায় নদীশাসনের অংশ হিসেবে ১৯৯৫ সালে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের কাউন্সিল বাজার ধুতিচোরা সহ কামারজানী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে প্রায় ২০০ মিটার ব্যবধানে মোট ৫টি পারমিয়েবল গোড়াইন বা স্পেন নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার তীরবর্তী জনপদকে তীব্র নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি একেবারে তলানিতে নেমে গেছে। পানি সরে যাওয়ায় গোড়াইনের নিচের অংশ এখন পুরোপুরি শুকনা। সেখানে পলি জমে তৈরি হয়েছে উর্বর চর। স্থানীয় কৃষকরা সেই জমিতে ব্যাপক উৎসাহে ধান, ভুট্টা,গম,কুমড়া কাউন সহ নানা ধরনের রবিশস্যের আবাদ করছেন। একসময়ের প্রমত্ত নদীর বুকে এখন সবুজের সমারোহ। লোহা ও পাটাতনের তৈরি দীর্ঘ সেতুসদৃশ গোড়াই গুলো বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের মাঝখানে। স্থানীয়দের চলাচলের জন্য এগুলো এখন শুষ্ক মৌসুমে দর্শনার্থীদের জন্য এক একটি পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দার চাঁনমিয়া জানান, ১৯৯৫ সালে এই ৫টি গোড়াইন নির্মাণের পর থেকে গিদারী ইউনিয়নের একটি বড় অংশ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতি বছর বাড়িঘর সরাতে হতো, এখন সেখানে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করার সাহস পাচ্ছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার জন্য বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর মতে, লোহার কাঠামোতে মরিচা ধরা বা নিচের ব্লকের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে নদীর পানি বাড়ার আগেই তা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে এ ধরনের টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে গাইবান্ধার চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: তারেক রহমান

সিদ্ধিরগঞ্জে দারুস সালেহ জামে মসজিদের পুনঃনিমাণ কাজের শুভ উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জে জনতার ভালোবাসায় সিক্ত তারেক রহমান

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পিকআপ-লরি সংঘর্ষে আহত ১

হাইকোর্টের রায়ে চেয়ারম্যান পদে ফিরলেন হুমায়ুন কবির

নারায়ণগঞ্জে BHDS অপরাধ প্রতিরোধ কল্যাণ সংস্থার ওরস্যালাইন ও খাবার পানি বিতরণ

দোয়ারাবাজারে সমবায় সমিতি নিয়ে বিরোধ: সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজি ও জালিয়াতির অভিযোগ

কালীগঞ্জে হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

চাঁদপুরে বৈদ্যুতিক শক খেয়ে ২১ বছরের এক যুবকের মৃত্যু

ভাংগায় ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার আটক ২

১০

বগুড়া হলো দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন, উৎসবের আমেজ

১১

বীমা খাতে ৪৪০০ কোটি টাকার বকেয়া, আস্থার সংকট তীব্র

১২

মাধবপুরে ৮৫০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরণ উদ্বোধন

১৩

ত্যাগ ও আন্দোলনের স্বীকৃতি পেলেন শাম্মী আক্তার

১৪

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত

১৫

নিজ জেলা বগুড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৬

এপ্রিলেই বজ্রপাতে ১৫ প্রাণহানি, সামনে আরও ঝুঁকির আশঙ্কা

১৭

জাহাজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা

১৮

নৌ-অবরোধ না উঠলে আলোচনায় বসবে না ইরান

১৯

কিশোরগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার

২০