
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগল’ নামে এক ব্যক্তিকে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে বেদী করে দাফন করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে ‘শরিয়ত পরিপন্থি’ দাবি করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ‘ইমান-আকিদা রক্ষা’ কমিটি।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের হল রুমে সংবাদ সম্মেলন এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা।
নুরুল হককে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লাপাড়ায় নিজের বাড়িতেই দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নুরুল হক আশির দশকের মাঝামাঝি নিজেকে ‘ইমাম মাহাদি’ বলে দাবি করেছিলেন। তখন চাপের মুখে তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। পরে আবার তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। তার বেশ কিছু ভক্ত-অনুসারীও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা ইমাম কমিটির সভাপতি ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “২৩ অগাস্ট নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের মৃত্যু হয়। পরে তাকে মাটি থেকে ১২ ফুট উঁচুতে বেদী তৈরি করে দাফন করা হয়েছে এবং কাবার রং করা হয়েছে ওই বেদীর; যা শরিয়তবিরোধী। এতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিক্ষুদ্ধ।
“এর আগে প্রশাসন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নেয়, ওই কবর ১২ ফুট থেকে নামিয়ে স্বাভাবিক কবরের মত করা হবে বলে আশ্বাস দেয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।”
তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবারের মধ্যে কবর স্বাভাবিক না হলে শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপরের শুক্রবার কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জসহ আশপাশের জেলায় বিক্ষোভ হবে। তারপরের শুক্রবার ঢাকা থেকে সারা দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজবাড়ী জেলার আমির মো. নুরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজবাড়ী শাখার সেক্রেটারি আরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান বলেন, “নুরুল হকের কবরস্থান নিয়ে কিছু কথাবার্তা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি মিটিং হয়েছে এবং আমাদের এখানে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “কবর দেওয়া নিয়ে কয়েকটি ইসলাম-মনা দল কিছু কর্মসূচি দিয়েছিল, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি, আপনারা ধৈর্য্য ধরেন, বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। সেটার কাজ আমরা করছি।
“এ ছাড়া নুরুল হকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধান দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন আমাদের।”
এ ব্যাপারে নুরুল হকের ছেলে মেহেদী নূর জিলানী বলেন, “আমার বাবা ইমাম মাহাদির দ্বীন প্রচারক ছিলেন। মৃত্যুর পর তার ওছিয়ত মোতাবেক কিছুটা উঁচু করে ইসলামের বিধান মেনে দাফন করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “১২ ফুট উঁচু করার অভিযোগ সত্য নয়। তিন থেকে চার ফুট উঁচু হতে পারে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। তবে কবর নিচু করতে ভক্ত ও খাদেমদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এক-দুদিনের মধ্যে করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।”
মন্তব্য করুন