কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা ও সদর থানায় দায়েরকৃত দুটি পৃথক মামলার পলাতক পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১৯ এপ্রিল (রবিবার) পৃথক দুটি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র্যাব কর্মকর্তারা।ইটনায় বৃদ্ধ হত্যা মামলার ৪ আসামি গ্রেপ্তার
ইটনা থানার আলোচিত হত্যা মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— মো. সাব্বির হোসেন (২২), মজিবুর রহমান (৫৫), মো. সজিব মিয়া (২৬) এবং শাহ আলম (৫২)।
দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকালে ইটনা থানার মধ্যগ্রামে মুরগির খামারে থাকা আইয়ুব আলী (৬৮) কে অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কামরুল হাসান বাদী হয়ে ইটনা থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০৮) দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিপিসি, বগুড়া ক্যাম্পের সহায়তায় ১৯ এপ্রিল রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বগুড়া জেলার শেরপুর থানাধীন খানপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম জাহেদ (৩৮)।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে সদর থানাধীন তেরহাসিয়া এলাকায় বাদী ইকরামুল হাসান অনিক ও তার পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ইকরামুল হাসান ও তার বাবা আবু কালামসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা (মামলা নং-৩২) দায়ের করা হয়।
অভিযুক্ত জাহেদ পলাতক থাকলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ এপ্রিল দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন নিয়ামতপুর বাজার এলাকা থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন