রাজধানীর খিলগাঁও থানার বনশ্রী এলাকায় স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলি হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিলিকে হত্যা করেন মিলন।
র্যাব জানায়, গতকাল রোববার সকালে বাগেরহাটের মান্ডা বাঁশখালী এলাকা থেকে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মিলন নিহত নিলির বাবা মো. সজীবের হোটেলের কর্মচারী ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মিলন নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও একই প্রস্তাব দিলে নিলি তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন বনশ্রীর এল-ব্লকের ওই বাসায় প্রবেশ করেন। কিছু সময় পর বের হয়ে গেলেও দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে আবার একা বাসায় ঢোকেন। প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের মধ্যেই নিলিকে হত্যা করে ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান তিনি।
র্যাব জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সঙ্গে নাইলনের দড়ি নিয়ে আসেন মিলন। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রথমে দড়ি দিয়ে নিলির গলা চেপে ধরেন। ভিকটিম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘর থেকে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নিলির বড় বোন শোভা জিম থেকে ফিরে বাসায় এসে রক্তাক্ত অবস্থায় নিলিকে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। র্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন