
বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সীমিত সক্ষমতা—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের পর দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে না পারায় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার মিলনায়তনে ‘ট্রাম্প ট্যারিফ পরবর্তী বিশ্ববাণিজ্য ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “কিছু মানুষ বাংলাদেশকে বনসাই বানিয়ে রাখতে চায়।”
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশি আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকে বারবার চট্টগ্রাম বন্দরের সীমিত সক্ষমতার প্রসঙ্গ উঠেছে। বিশ্বের বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান যেমন গ্যাপ ও পিভিএইচও বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, গ্লোবাল কনসেনসাস হচ্ছে—এক্সপোর্ট লিড ইকোনমি করতে হলে প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো লজিস্টিকস; আর লজিস্টিকসের মূল চ্যালেঞ্জ চট্টগ্রাম বন্দর। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা যেমন বিভিন্ন দেশের বন্দর পরিচালনা করছে, তেমনি বাংলাদেশেও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ব্যাংক ও এনার্জি সেক্টরে লুটপাট করেছে। বিদ্যুতের উচ্চমূল্য বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। তবে বর্তমান সরকার কাঠামোগত সংস্কারের কাজ করছে।
অভ্যুত্থানের পর ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে “অসাধারণ” উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মূল্যস্ফীতি কমেছে, রিজার্ভ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (রেইন)। রুবাইয়াৎ সারোয়ারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর, অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান, জিয়া হাসান, ইস্রাফিল খসরু ও শামারুখ মহিউদ্দিন।
মন্তব্য করুন