
বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কহার ৩৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রপ্তানিকারকরা স্বস্তি পেলেও দেশীয় শিল্পের ওপর এর অভিঘাত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এই ছাড় শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক সমঝোতার ফল। যেমন—যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং কেনা, গম, তুলা ও সয়াবিন আমদানি এসব চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এসব চুক্তি কেমনভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে আছে ধোঁয়াশা।
ড. মোস্তাফিজ বলেন, এই শুল্কছাড়ের ফলে পোশাক খাত উপকৃত হলেও আমদানি প্রতিস্থাপক স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কম শুল্কে পণ্য আসলে তা স্থানীয় উৎপাদনে চাপ তৈরি করবে। তুলা ও গম আমদানির খরচও বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক ঐকমত্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, ব্যবসায়ী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকায় বেসরকারি খাতও অন্ধকারে রয়েছে।
তাঁর মতে, শুল্কছাড়ের সুফল পেতে শুধু শুল্ক নয়, উৎপাদন খরচ ও দক্ষতা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অ-শুল্ক বাধা যেমন মেধাস্বত্ব আইন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসসহ কাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়নের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন