
ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে জামাতপন্থীদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাজী এটিএম মুস্তাক আহমেদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে, শুক্রবার আদর্শবাগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামাতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা ও পিরোজপুর-১ আসনে দল সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, যিনি আলোচিত আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে। এই অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মুস্তাক আহমেদ।
ঘটনার পর থেকে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন—আওয়ামী লীগের এক নেতা কীভাবে জামাতের নির্বাচনী কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করতে পারেন?
স্থানীয়রা জানান, হাজী মুস্তাক একসময় ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শামসুদ্দিন ভূঁইয়া সেন্টুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হারুনুর রশিদের নির্বাচনী কমিটির সভাপতি ও অর্থদাতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এলাকায় জামাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
নন্দিত টিভির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে হাজী মুস্তাক আহমেদ জানান, “আমি পিরোজপুরের বাসিন্দা, যাত্রাবাড়ীতে বসবাস করি। পিরোজপুরবাসীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করেছি যেখানে মাসুদ সাঈদী অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করলেও এটা কোনো রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা বহন করে না। আমি এখনো আওয়ামী লীগের কর্মী।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন দ্বৈত ভূমিকা রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্ন তোলে। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় আওয়ামী লীগের অবস্থান এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন