
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—সাবেক আইজিপি মামুন আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন এবং নিজেকে রাজসাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আদালতে তিনি বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় সত্য প্রকাশে আগ্রহী। যেসব ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই এবং আদালতকে সহায়তা করতে চাই।”
আইনজীবীদের মতে, স্বীকারোক্তি প্রদানকারী আসামিকে সাধারণত রাজসাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে মামুনের স্বীকারোক্তি মামলার গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ গঠনের শুনানিতে বলেন, আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের বাহিনী এবং দলীয় ক্যাডাররা যৌথভাবে ব্যাপক সহিংসতা চালায়। চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত করতে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়া, হাসপাতাল অবরুদ্ধ করা, এমনকি মেডিকেল কর্মীদের ভয় দেখানো এবং রোগীদের গ্রেপ্তার করার মতো কাজও করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় দিন। শেখ হাসিনার শাসনের পতনের মুহূর্তে জনতার বিপ্লব ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ বর্বরতার আশ্রয় নেয়।”
এই মামলায় বিচার শুরু হওয়ায় দেশ-বিদেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন