পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার—সবকিছু ঠিক থাকার পরও যদি ক্লান্তি না কাটে, সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাস নিতে কষ্ট হয় কিংবা বসা থেকে উঠলে মাথা ঘোরে—তাহলে সেটি অবহেলা করার সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ আয়রন-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতার প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে।
আয়রন মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, যা হিমোগ্লোবিন তৈরির মাধ্যমে শরীরজুড়ে অক্সিজেন পরিবহন করে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রক্ত পর্যাপ্ত অক্সিজেন বহন করতে পারে না। ফলে পেশি ও মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত শক্তি পায় না এবং দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, দুর্বলতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস।
চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যানিমিয়ার অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হলো অতিরিক্ত অবসাদ, ফ্যাকাশে বা হলদেটে ত্বক, অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট এবং দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন। অনেক ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং হাত-পা ঠান্ডা থাকার সমস্যাও দেখা যায়। নারীদের মধ্যে বিশেষ করে কিশোরী ও গর্ভবতী নারীরা আয়রন ঘাটতির ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।
অ্যানিমিয়ার একটি ব্যতিক্রমী লক্ষণ হলো ‘পাইকা’—যেখানে বরফ, মাটি বা চক খাওয়ার অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। পাশাপাশি নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, চুল পড়া এবং জিহ্বায় ব্যথাও রক্তস্বল্পতার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অ্যানিমিয়া অবহেলা করলে হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যতালিকায় লাল মাংস, কলিজা, ডাল, শাকসবজি ও ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবার রাখলে আয়রন ঘাটতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সচেতন হলেই নীরব এই রোগকে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
মন্তব্য করুন