অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের প্রধান স্রোত ব্যবস্থা ধসের সম্ভাবনাকে “জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি ও অস্তিত্বের ঝুঁকি” হিসেবে ঘোষণা করেছে আইসল্যান্ড। দেশটির জলবায়ু মন্ত্রী ইয়োহান পল ইয়োহানসন জানিয়েছেন, সরকার সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে কাজ শুরু করেছে।
এই স্রোত ব্যবস্থার নাম অ্যাটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন, বা সংক্ষেপে AMOC। এটি উষ্ণ পানি নিয়ে যায় বিষুবরেখা থেকে আর্কটিকের দিকে এবং ইউরোপের শীতকে সহনীয় রাখে। কিন্তু দ্রুত গলতে থাকা গ্রিনল্যান্ডের বরফ এবং ঠান্ডা মিষ্টি পানির প্রবাহ এই উষ্ণ স্রোতকে ব্যাহত করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, AMOC ধসে পড়লে আধুনিক যুগের নতুন বরফ যুগ শুরু হতে পারে। উত্তর ইউরোপে শীতের তাপমাত্রা অতি নিম্নে নেমে যেতে পারে, বাড়তে পারে বরফঝড় ও তুষারপাত। ইতিহাসে শেষ বরফ যুগের আগে এই স্রোত ধসে পড়েছিল, প্রায় ১২ হাজার বছর আগে।
আইসল্যান্ডের মন্ত্রী ইয়োহানসন বলেন, “এটি আমাদের জাতীয় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার সরাসরি হুমকি। প্রথমবারের মতো কোনো জলবায়ু–সম্পর্কিত ঝুঁকিকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।” এর ফলে সব মন্ত্রণালয় এখন সতর্ক অবস্থায় কাজ করছে, এবং তৈরি হচ্ছে দুর্যোগ প্রস্তুতি নীতি। ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হচ্ছে জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে।
বিশ্বজুড়ে এ ধরণের স্রোত ধসের প্রভাব পড়তে পারে আফ্রিকা, ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকার কৃষিভিত্তিক বৃষ্টিপ্রবাহে। এ ছাড়াও এটি অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলনও ত্বরান্বিত করতে পারে, যা ইতিমধ্যেই দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনও বিষয়টি নিয়ে গবেষণা বাড়াচ্ছে। ব্রিটেন জানিয়েছে, যদিও হঠাৎ ধস এই শতকে সম্ভাবনা কম, তবু ৮১ মিলিয়ন পাউন্ডের গবেষণা তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে জলবায়ুর “টিপিং পয়েন্ট” বোঝার জন্য।
জার্মান জলবায়ু গবেষক স্টেফান রামস্টর্ফ সতর্ক করে বলেছেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে; টিপিং পয়েন্ট হয়তো আমাদের ধারণার চেয়েও কাছাকাছি।”
আইসল্যান্ড ইতিমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে সতর্ক অবস্থায় গেছে। মন্ত্রী ইয়োহানসন বলেন, “সমুদ্রের বরফ সামুদ্রিক পরিবহন ব্যাহত করতে পারে; চরম আবহাওয়া কৃষি ও মৎস্য খাত ধ্বংস করতে পারে, যা আমাদের অর্থনীতির মূলভিত্তি। আমরা অপেক্ষা করতে পারি না—এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।”
এমন পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের তীব্রতা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন