
নাটোরে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সদর উপজেলার ঝাউতলা ও আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ১৪৭ জন রোগী নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও রয়েছেন।
ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন শিশু, ৫৫ জন নারী এবং ৬৬ জন পুরুষ রয়েছেন। আক্রান্তরা সবাই পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, বমি ও দুর্বলতা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ডা. রবিউল আওয়ালকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডা. আবু সাঈদ, ডা. সোহরাব, ডা. নাজমা এবং ডা. শ্রাবন্তী।
এদিকে খবর পেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন সদর হাসপাতালে পরিদর্শনে যান। তিনি রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সবার সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাত থেকে শহরের ঝাউতলা, পূর্ব ঝাউতলা, হাফরাস্তা, বড়গাছা, কান্দিভিটা ও আশপাশের এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। প্রথমে ৩০–৩৫ জন ভর্তি হন রাতেই। এরপর বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হন আরও ৬৫ জন। দুপুর ১২টা নাগাদ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৭ জনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, এবং ১২৮ জন রোগী এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন মজুত রয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুক্তাদির আরেফিন জানান, শহরের ঝাউতলা এলাকার কিছু ডায়রিয়া রোগী সনাক্ত হয়েছে। রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সকাল পর্যন্ত ৬৫ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়। এরপর দুপুর পর্যন্ত মোট ১৪৭ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে বেশ কয়েকজন রোগী বাড়ি ফিরেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছি, পানিবাহি রোগ থেকে এ ডায়রিয়া ছড়িয়েছে। দ্রুত বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ মেডিসিন সরবারহ করা হবে। হাসপাতালে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবারহ রয়েছে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন