
আপনার বয়স কম, তবু মুখ, হাত ও পায়ের অতিরিক্ত লোম আপনার আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলছে—এটি বোঝা যায়। আপনি ইতোমধ্যেই হরমোন টেস্ট করিয়েছেন এবং ক্যাবারগোলিন খেয়েছেন, যা প্রোল্যাকটিন হরমোনের ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে। কিন্তু তেমন সুফল পাননি—এখন আপনার করণীয় কী?
নারীদের মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর অন্যতম কারণ হলো:
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)
উচ্চ প্রোল্যাকটিন হরমোন
অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির সমস্যা
জেনেটিক (বংশগত) প্রবণতা
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন কিছু স্টেরয়েড, ডিপ্রেশনের ওষুধ)
আপনার হরমোন টেস্টের রিপোর্ট ভালোভাবে দেখে একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা গাইনোকোলজিস্ট আপনার জন্য সঠিক চিকিৎসা ঠিক করতে পারবেন।
চিকিৎসার ৪টি পথ
১. ঔষধ বা ক্রিম
যদি হরমোনজনিত কারণ নিশ্চিত হয়, তবে চিকিৎসক সাধারণত:
অ্যানড্রোজেন ব্লকার (যেমন Spironolactone বা Cyproterone acetate) প্রেসক্রাইব করতে পারেন।
মুখে ব্যবহারের জন্য FDA অনুমোদিত Vaniqa (Eflornithine hydrochloride) cream ব্যবহার করা হয়। এটি মুখের লোম গজানো ধীর করে।
বাংলাদেশে Eflornithine পাওয়া না-ও যেতে পারে, তাই বিকল্প হিসেবে চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিন।
২. পার্লার পদ্ধতি (তবে সাময়িক)
থ্রেডিং, ওয়াক্সিং, শেভিং
হেয়ার রিমুভাল ক্রিম (যা মুখে ব্যবহারে সতর্কতা দরকার)
৩. পার্মানেন্ট সমাধান
লেজার হেয়ার রিমুভাল: মুখের অবাঞ্ছিত লোম কমাতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর
ইলেক্ট্রোলাইসিস: FDA-স্বীকৃত স্থায়ী সমাধান, তবে ব্যথাযুক্ত ও সময়সাপেক্ষ
৪. লাইফস্টাইল পরিবর্তন
ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন (বিশেষত যদি PCOS থাকে)
চিনি ও হাই-কার্ব খাবার কমিয়ে দিন
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
করণীয় তালিকা
মুখের অবাঞ্ছিত লোম নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। এটা চিকিৎসাযোগ্য এবং অনেক নারীই এই সমস্যার সম্মুখীন হন। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে আপনি নিশ্চিন্তে বাইরে যেতে পারবেন, আর আয়নায় নিজের মুখ দেখেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন।
জুজা
মন্তব্য করুন