
বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে মন্দা কাটছে না। অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা বলছেন, পুরনো ধারার নীতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের ১১ মাসেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসেনি।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৭ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। উচ্চ নীতিসুদের কারণে নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন, পুরনো ব্যবসারাও বিস্তারে পিছিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাংক ঋণের সুদহার এখন ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ, যা অনেক উদ্যোক্তার জন্য অসহনীয়।
এদিকে নতুন ঋণ শ্রেণীকরণ নীতিতে মাত্র তিন মাসের খেলাপি ঋণ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। এতে স্বচ্ছতা বাড়লেও হঠাৎ করে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বেশি।
বড় ঋণ খেলাপিদের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি পাঁচ মাসে মাত্র ১০০টি আবেদন যাচাই করতে পেরেছে, যদিও জমা পড়েছে ১,২৫০টির বেশি। দীর্ঘসূত্রতার ফলে বড় শিল্প গ্রুপগুলো অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকিং খাতকে স্বচ্ছ করতে তারা নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু কঠোর নিয়ম নয়, প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ঋণ খেলাপির সময়সীমা ছয় মাসে উন্নীত না করলে বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে। আর ডলারের চড়া দামে আমদানি খাতেও দেখা দিয়েছে বড় সংকট।
সব মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও বাস্তবভিত্তিক, দ্রুত ও সাহসী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা।
মন্তব্য করুন