ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তিচুক্তি না হলে আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে ২২ এপ্রিল। এর মধ্যেই একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
তবে সেই প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি। ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠক হলেও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।”
তিনি আরও জানান, সে ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন সময় অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে কড়া অবস্থানের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি “ভালো চুক্তি” করতে চায় এবং তাড়াহুড়া করে কোনো দুর্বল বা আপসের চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নয়।
তার ভাষায়, “আমরা কোনো খারাপ চুক্তি করতে চাই না। ভালো চুক্তির জন্য যত সময় লাগে, আমরা তা নিতে প্রস্তুত।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে সামরিক চাপ সৃষ্টি, অন্যদিকে কূটনৈতিক দরকষাকষি—এই দুই কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের ওপর চাপ বাড়লেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এখন সবার নজর—শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতা হয় কিনা, নাকি আবারও শুরু হয় নতুন করে সংঘাত।
মন্তব্য করুন