মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটি একটি ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির পথে অগ্রসর হওয়া।
পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালী-এর নিয়ন্ত্রিত চলাচল ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ইরান তার অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ প্রোটোকল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া পরিকল্পনায় যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি প্রতিরোধ বজায় রাখা এবং সব পক্ষের প্রতি আক্রমণ বন্ধ রাখার শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই চুক্তির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের সব ঘাঁটি থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব ধরনের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, ইরানের ওপর হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এর মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত রেজুলেশন পাশ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। আলোচনার পর দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে সবকিছু নির্ভর করছে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের ওপর, যেখানে এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন