ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির নির্মম হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আবারও পিছিয়েছে। সোমবারের দিন প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ধার্য থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক তা জমা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম আদালত নতুন করে ৯ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রুনির বন্ধু তানভীর রহমান, বাসার নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল এবং আবু সাঈদ। আসামিদের একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।
২০১২ সালে বর্ষার রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটার পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত স্থানীয় থানার উপ-পরিদর্শকের কাছে ছিল, পরে তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আসে। কিন্তু দীর্ঘ তদন্তেও রহস্য উদঘাটন করা যায়নি।
এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন তদন্ত চললেও অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দেন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের জন্য। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে।
মামলার দীর্ঘায়িত তদন্ত, বারবার সময়সীমা পরিবর্তন এবং প্রগতির ধীরগতি জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নতুন সময়সীমা ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণের পরও জনগণ ও সাংবাদিক সমাজ কবে অবশেষে তদন্ত প্রতিবেদন পাবেন—এটি নজরকাড়া প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন