
গোসলের পর পানি মুছতে, রান্নাঘরে ব্যবহার করতে কিংবা দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন ধরনের তোয়ালের ব্যবহার হয়।
অনেক সময় দেখা যায়, নতুন তোয়ালেও কয়েকবার ব্যবহার করার পর স্যাঁতসেঁতে গন্ধ বা দুর্গন্ধ হয়ে যায়। এর প্রধান কারণ হল আর্দ্র পরিবেশে ব্যাক্টেরিয়ার জন্ম।
‘গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স’-এর সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত এই বিষয়ে বলেন, “তোয়ালে থেকে দুর্গন্ধ দূর করতে হলে শুধু ধোয়া-ই যথেষ্ট নয়; বরং পুরো প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।”
ওয়াশিং মেশিন জীবাণুমুক্ত
তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “মানুষ প্রতিদিন প্রচুর মৃত চামড়ার কোষ ঝরায়। এর অনেকটাই জমে থাকে কাপড়, তোয়ালে ও ধোয়ার মেশিনে। তাই যদি নোংরা মেশিনে তোয়ালে ধোয়া হয়, তবে গন্ধ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না।”
তাই প্রথমেই ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার রাখা জরুরি। এজন্য খালি মেশিনে এক চতুর্থাংশ কাপ ব্লিচ দিয়ে একটি চক্র চালিয়ে নিলে ভেতরের অংশ জীবাণুমুক্ত হয়।
তবে ব্লিচ ব্যবহার করলে অবশ্যই পরে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে, যাতে কাপড়ের ক্ষতি না হয়।
তোয়ালে গভীরভাবে ধোয়া
তোয়ালে শুধু নিয়মিত ধোয়া নয়, বরং মাঝে মাঝে গভীরভাবে পরিষ্কার করাও দরকার।
এই বিশেষজ্ঞের মতে, “একবারে তিনটির বেশি তোয়ালে ধোয়া যাবে না। আর গরম পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে ধোয়া উচিত।”
এ সময় সাধারণ ডিটারজেন্টের সঙ্গে বাড়তি উপাদান হিসেবে সাদা ভিনেগার বা প্রাকৃতিক সুগন্ধি তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
এগুলো কাপড়কে জীবাণুমুক্ত করে এবং দুর্গন্ধ কমায়। তবে ভিনেগার ব্যবহারের আগে অবশ্যই মেশিন থেকে ব্লিচের সব অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে হবে।
যদি ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থাকে, তবে বুঝতে হবে ব্যাক্টেরিয়া এখনও রয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে আবার ধোয়া দরকার বা মেশিন আবার জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
তোয়ালে ভালোভাবে শুকানো
তোয়ালে ধোয়ার পর যদি ভিজে অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে শুরু করে। তাই মেশিন থেকে তোয়ালে দ্রুত বের করে শুকানো অত্যন্ত জরুরি।
ড্রায়ার ব্যবহার করলে একবারের পর তোয়ালে আর্দ্র থাকলে আবার চালাতে হবে যতক্ষণ না পুরোপুরি শুকিয়ে যায়।
সম্পূর্ণ শুকানোর পর ভাঁজ করলে ব্যা্ক্টেরিয়া ও ছত্রাক জন্মাতে পারবে না, আর তোয়ালেও দুর্গন্ধ হবে না।
শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার
শরীরের ঘাম ও ত্বকের তেল তোয়ালের দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ। গোসলের সময় ভালোভাবে সাবান ব্যবহার করা জরুরি, বিশেষ করে যে অংশগুলো বেশি ঘামে— যেমন পা, বগল ও কুঁচকি।
অনেকেই বিশেষ করে শিশুরা, গোসলের সময় সঠিকভাবে শরীর পরিষ্কার করে না। ফলে সেই ব্যাক্টেরিয়াই তোয়ালে গন্ধ তৈরি করে।
তাই শরীর ভালোভাবে ধোয়া মানেই তোয়ালেকেও পরিষ্কার ও গন্ধমুক্ত রাখা।
ব্যবহারের পর তোয়ালে ঝুলিয়ে শুকান
ভেজা তোয়ালে কখনই মেঝেতে বা ঝুড়িতে ফেলে রাখা উচিত নয়। তাতে ভেতরে ব্যাক্টেরিয়ার জন্ম বৃদ্ধি হয় দ্রুত। বরং ব্যবহারের পর তোয়ালে ঝুলিয়ে শুকাতে হবে।
একটি ভালো তোয়ালে র্যাক ব্যবহার করলে সর্বাধিক অংশ বাতাসে শুকাতে পারে। অনেক সময় তোয়ালে একদিন পরও আর্দ্র থাকে, তবে বুঝতে হবে বাতাস চলাচল যথেষ্ট হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে বড় র্যাক ব্যবহার করা উচিত।
বেইকিং সোডা ব্যবহার
“তোয়ালে নিয়মিত ধোয়ার পরও যদি গন্ধ থেকে যায়, তবে বেইকিং সোডা ব্যবহার করা যেতে পারে।
“আধা কাপ বেইকিং সোডা সরাসরি মেশিনের ড্রামে দিয়ে গরম পানিতে ধুলে গন্ধ দূর হয়” বলেন তাসমিয়া জান্নাত।
খেয়াল রাখতে হবে ভিনেগার ও বেইকিং সোডা একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। কারণ এরা একে অপরের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। তাই একবার ভিনেগার দিয়ে ধুয়ে নিলে পরের চক্রে বেইকিং সোডা ব্যবহার করতে হবে।
অতিরিক্ত পরামর্শ
মন্তব্য করুন