
দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চেও ঋণ খেলাপির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নামে-বেনামে বিতরণ করা ঋণের একটি বড় অংশই এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় নেওয়া এসব ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো।
নতুন নীতিমালায় খেলাপি সংজ্ঞা কঠোর করায় অনেক নবায়ন করা ঋণও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংক—ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের গড় খেলাপি ঋণ ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোতেও বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণের চিত্র সামনে আসছে। এ ছাড়া সরকারি খাতের অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি আইএফআইসি, ইউসিবি, এনআরবি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বড় হারে বেড়েছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক এই পাঁচ ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ বিবেচনায় ১ হাজার ২০০ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ঋণ নবায়নের আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে শতাধিককে ইতিমধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে না পারলে ব্যাংক খাত ধ্বংসের মুখে পড়বে।
মন্তব্য করুন