
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি কান্ট্রি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ (বিআইসিআরএ) প্রতিবেদনে দেশটির ব্যাংক খাতকে ৯.০ স্কোর দেওয়া হয়েছে—যেখানে ১০ হলো সর্বোচ্চ ঝুঁকির মাত্রা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গোলিয়া, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মতো বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। দুর্বল করপোরেট শাসন, তারল্য সংকট, কিছু শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকে জালিয়াতি ও অভ্যন্তরীণ অনিয়মকে দায়ী করা হয়েছে এই অবস্থার জন্য।
২০২৩ সালের শেষ ভাগে বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি ইসলামি ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করে, যার মধ্যে বোর্ড পুনর্গঠন, কর্মকর্তাদের বরখাস্ত ও জরুরি তারল্য সহায়তার মতো পদক্ষেপ ছিল।
তবে অর্থনৈতিক ঝুঁকির ধারা ও সিস্টেম-ওয়াইড ফান্ডিং সূচকে ‘স্থিতিশীল’ অবস্থান থাকায় কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারিতে কিছু অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানে ধাক্কা লাগবে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, সংস্কার আশা জাগালেও ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও করপোরেট জবাবদিহিতার অভাব দূর না করলে সমস্যা রয়ে যাবে।
জুজা
মন্তব্য করুন