
বিশ্বে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে জন্ম নিয়েছে এমন আটটি শিশু, যাদের ডিএনএ এসেছে তিনজনের শরীর থেকে—জীববিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ‘থ্রি-প্যারেন্ট বেবি’। মা-বাবা ছাড়াও এক নারী ডোনারের মাইটোকন্ড্রিয়া থেকে নেওয়া উপাদান দিয়ে এসব শিশুর জন্ম হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ প্রতিরোধ।
এই রোগ মায়ের দেহ থেকে সন্তানের দেহে সরে এসে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করে, এমনকি শিশুর মৃত্যুও ঘটায়। তবে এই প্রযুক্তিতে জন্ম নেওয়া আটটি শিশুর কেউই এই রোগে আক্রান্ত হয়নি—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল ফার্টিলিটি সেন্টার ও গবেষণা প্রকাশ করেছে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন।
বিজ্ঞানীরা জানান, শিশুর ৯৯.৯% জেনেটিক উপাদান থাকে মা–বাবার কাছ থেকে, কিন্তু মাত্র ০.১% উপাদান আসে মাইটোকন্ড্রিয়া দানকারী নারীর কাছ থেকে। ফলে রোগ প্রতিরোধ নিশ্চিত হয়, কিন্তু শিশুর বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ হয় না।
তবে এ নিয়ে নৈতিক বিতর্কও রয়েছে। কারণ, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মে প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও গবেষকরা বলছেন—এটাই অনেক পরিবারের জন্য বংশগত রোগ থেকে মুক্তির বাস্তব আশার প্রতীক।
জুজা
মন্তব্য করুন