
বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হবে প্রশাসনিক ও আর্থিকভাবে স্বায়ত্তশাসিত। গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণে সংসদের অনুমতি প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি আর্থিক খাত তদারকিতে সরকার নয়, স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ নীতিনির্ধারণ করবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত হয় ১৯৭২ সালের অর্ডারে। এবার ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন অধ্যাদেশ আকারে এই আইন জারি করা হবে। খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক কর্মকর্তা সাকের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি দল।
নতুন কাঠামোয়, গভর্নরের মর্যাদা হবে মন্ত্রীর সমান, পর্ষদে কোনো সরকারি কর্মকর্তা থাকবেন না, এবং গভর্নরের মনোনয়নেই সদস্যরা নিয়োগ পাবেন। পর্ষদ নীতিনির্ধারণ ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মী নিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধা ঠিক করবে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, ব্যাংক তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আলাদা বিভাগ গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন করলেই চলবে না, গভর্নর নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন ও মানদণ্ড নির্ধারণ করে যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়াবে।
মন্তব্য করুন