
আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি নির্ধারিত ফ্লাইট শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো যখন এক সপ্তাহ আগেই এই একই রুটের এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট (AI 171) বিধ্বস্ত হয়ে ২৭০ যাত্রীর মৃত্যু হয়। যা ভারতের বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিএনএন নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইটটি দিল্লি থেকে আহমেদাবাদ এসে পৌঁছেছিল এবং স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১০ মিনিটে (ব্রিটিশ সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিট) গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইটটি বিকেল ৬টা ২৫ মিনিটে লন্ডনে পৌঁছানোর কথা ছিল।
ফ্লাইটর্যাডার সূত্রে জানা গেছে, আজকের ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে পরিচালনার কথা ছিল—একই মডেলের বিমান যা গত সপ্তাহে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এই মডেলের বিমান দিয়েই আগামী সপ্তাহে একই রুটে আরও ছয়টি ফ্লাইট চালানোর কথা রয়েছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই রয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ায় সম্প্রতি একাধিক ফ্লাইট বাতিল ও যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটছে। গতকাল সোমবার এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি ফ্লাইট অপারেশনাল সমস্যা ও ক্রুদের ডিউটির সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাতিল করা হয়।
আজ মঙ্গলবার ভোরে সান ফ্রান্সিসকো থেকে মুম্বাইগামী আরেকটি ফ্লাইটের একটি ইঞ্জিনে ত্রুটি ধরা পড়ে। বিমানটি কলকাতা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে এবং যাত্রীদের সেখানে নামিয়ে দেওয়া হয়।
গত সপ্তাহে যে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হয়েছিল, তার ব্ল্যাক বক্স ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এতে থাকা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিমানটির ইঞ্জিন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
এভিয়েশন বিশ্লেষক ও সাবেক পাইলট অমিত সিং বলেন, “ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণের মাধ্যমে বোঝা যাবে আসলে কী হয়েছিল—প্রযুক্তিগত ত্রুটি, মানবিক ভুল না অন্য কিছু।”
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিমানচলাচল খাতজুড়ে।
মন্তব্য করুন