
দেশের ব্যাংকিং খাতে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন আর্থিক চাপ। এক বছরে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় গুণে—২০২৪ সালের মার্চে যেখানে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা, ২০২৫ সালের মার্চে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঘাটতি ১ লাখ ৭ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, যা মাত্র তিন মাসে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন—এই অবস্থা ব্যাংক খাতের জন্য বড় ধরনের সংকেত।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন—“প্রভিশন না রাখা মানে আমানতকারীর টাকাকে ঝুঁকিতে ফেলা। এমন ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত।”
মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণ ১৭ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা—যা মোট ঋণের ২৪ শতাংশের বেশি।
অথচ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যেখানে ৭০ শতাংশ প্রভিশন কাভারেজ থাকা উচিত, সেখানে বাংলাদেশে তা এখন মাত্র ৩৮ শতাংশ।
এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
মূলত পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপ এবং সালমান এফ রহমান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিপুল ঋণ গোপন রাখার অভিযোগ উঠে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেই গোপন খেলাপির তথ্য প্রকাশ্যে আসে, যা এই ঘাটতির বড় কারণ।
ব্যাংক খাতের আস্থার এই সংকট কাটাতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন— মূলধন পুনর্গঠন, খেলাপি আদায়ে কড়াকড়ি, এবং সুশাসনই এখন একমাত্র উপায়।
মন্তব্য করুন