কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া তাঁর পেশাদারিত্ব, সততা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জেলাজুড়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান সাধারণ মানুষের কাছে তাঁকে ‘আস্থার প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কিশোরগঞ্জে যোগদানের আগে টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় যোগদানের অল্প দিনের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে মেধা ও সাহসিকতার সংমিশ্রণে তিনি প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন, যা তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও গভীর দেশপ্রেমের প্রতিফলন।
গত ৭ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল কাটাখালী ১ নং ওয়ার্ডে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী জনসভায় ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া মাদকের কুফল সম্পর্কে স্থানীয়দের সতর্ক করেন। উপস্থিত অভিভাবক ও তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:
”মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের সন্তানদের এই মরণনেশা থেকে বাঁচাতে হলে পুলিশের পাশাপাশি অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে হলে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
বর্তমান সময়ের অন্যতম অভিশাপ ‘অনলাইন জুয়া’ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন,
”মাদকের পাশাপাশি বর্তমানে অনলাইন জুয়া আমাদের যুবক ও তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই মরণনেশায় পড়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। কিশোরগঞ্জের মাটিতে কোনোভাবেই এই ডিজিটাল অপরাধ সহ্য করা হবে না। যারা এই ধরনের জুয়ার সাথে জড়িত বা প্ররোচনা দিচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কিশোরগঞ্জের মাটি থেকে মাদকের মূল উপড়ে ফেলতে আমি বদ্ধপরিকর। আপনারা নির্ভয়ে আমাদের কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিন। আমি কথা দিচ্ছি, তথ্যদাতার পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে।”
ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানাকে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে:
উন্মুক্ত দ্বার: থানার দরজা সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।
হয়রানি বন্ধ: জিডি বা মামলা করতে সাধারণ মানুষকে যেন কোনো দালালের খপ্পরে পড়তে না হয়, তা তিনি নিজে তদারকি করছেন।
সরাসরি সাক্ষাৎ: কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই যে কেউ সরাসরি ওসির সাথে কথা বলে আইনি সহায়তা নিতে পারছেন।
যশোদল কাটাখালীর সচেতনতামূলক সভায় ১নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আব্দুল খালেকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ওসির এই সাহসী ও জনহিতকর পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওসির কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর থানাকে একটি অপরাধমুক্ত ও আদর্শ থানা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়ার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।
মন্তব্য করুন