ইসলামে শোক পালন বৈধ, তবে এর রয়েছে স্পষ্ট সীমারেখা। শোক পালনের নামে বাড়াবাড়ি, মাতম বা কুসংস্কারপূর্ণ আচরণ নিষিদ্ধ।
প্রিয়জনের মৃত্যুতে শোক পালন আবেগঘন হলেও, ইসলামে এর নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম রয়েছে। যেমন, সাধারণ মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিন পর্যন্ত শোক পালন করা যায়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীকে ৪ মাস ১০ দিন শোক পালন করতে হয়।
সহিহ হাদিস অনুযায়ী, রাসুল (সা.) বলেছেন— কোনো মুসলিম নারীর জন্য স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন বৈধ নয়। (বুখারি: ১২৮০)
শোকের সময় চোখে পানি আসা, কষ্ট অনুভব করা স্বাভাবিক। এমনকি রাসুল (সা.)-ও তাঁর পুত্র ইবরাহিমের মৃত্যুতে অশ্রুসিক্ত হন। বলেন— “চোখ অশ্রু ঝরায়, হৃদয় ব্যথিত হয়, তবে আমরা মুখে কেবল সে কথাই বলি যা আল্লাহ পছন্দ করেন।” (বুখারি: ১৩০৩)
তবে ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে অতিরিক্ত আবেগে মাতম, গালে চড় মারা, বুক চাপড়ানো বা কাপড় ছিঁড়ার মতো আচরণ। নবীজি বলেন, “যে ব্যক্তি গালে চড় মারে, জামা ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলি যুগের মতো আহাজারি করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (বুখারি: ১২৯৮)
ইদ্দতকালে সাজসজ্জাও নিষিদ্ধ। স্বামীর মৃত্যুর পর নারীরা চার মাস ১০ দিন পর্যন্ত সুরমা, গহনা বা প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারবেন না। (বুখারি: ৫৩৩৮)
এছাড়া মৃতের বাড়িতে খাবার আয়োজন করাও সাহাবায়ে কিরামের দৃষ্টিতে অনুচিত। বরং প্রতিবেশীদের উচিত শোকাহত পরিবারকে খাবার পাঠানো। (ইবনে মাজাহ: ১৬১২)
শোক প্রকাশে সংযত থাকা, অতিরিক্ত আহাজারি না করে দোয়া, ইস্তিগফার ও সদকায় মনোনিবেশ করাই ইসলামের পথ। এতে মৃত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাতের আশাও বাড়ে।
মন্তব্য করুন