
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি চালু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতবিরোধ তুঙ্গে। সংবিধান ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর চালুর সুপারিশ থাকলেও জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তা নিম্নকক্ষেও চান।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট, যেখানে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, পিআর পদ্ধতিতে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হয়। যেমন, ১০ শতাংশ ভোট পেলে দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০টি পাবে।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন এই পদ্ধতিকে সমর্থন করলেও বিএনপি ও তার মিত্ররা বলছে, এতে ছোট দলগুলোকে সুবিধা দিয়ে মূল নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার ফাঁদ তৈরি হচ্ছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার পাশাপাশি নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার কথাও বলা হয়েছে। তবে বিএনপি বলছে, পিআর চালু করলে রাজনীতিতে বিভক্তি ও অস্থিরতা তৈরি হবে।
তারেক রহমান বলেছেন, এই পদ্ধতির আড়ালে নতুন ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা রয়েছে। এনসিপি, নাগরিক ঐক্যসহ কয়েকটি দলও নিম্নকক্ষে পিআরের বিরোধিতা করেছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই পিআর পদ্ধতি চালু আছে। এতে ভোটের অপচয় কমে এবং দলগুলোর দায়বদ্ধতা বাড়ে। তবে রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন কঠিন।
মন্তব্য করুন